দাঁতনে তৃনমুলের মিছিল ও সভা পরিণত হলো জনসমুদ্রে - The News Lion

দাঁতনে তৃনমুলের মিছিল ও সভা পরিণত হলো জনসমুদ্রে




দি নিউজ লায়ন ; পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতনে শুভেন্দু অধিকারী র রাজনৈতিক কর্মসূচির ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাল্টা কর্মসূচি নিলো তৃণমূল। রবিবার বিজেপির আয়োজনে মিছিল ও পথসভায় অংশগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকেলে তার প্রতিবাদ জানাতে পাল্টা মিছিল ও পথসভা করে দাঁতন ১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস।এদিন এই মিছিলে পা মেলান প্রায় ৩০ হাজার দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। 


এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃনমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলা সভাপতি অজিত মাইতি,তৃণমূল যুব কংগ্রেসের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য,  তৃনমূলের জেলার মুখপাত্র দেবাশীষ চৌধুরী,বিধায়ক দিনেন রায়,বিক্রম প্রধান,শ্রীকান্ত মাহাতো,প্রদুৎ ঘোষ, পরেশ  মুর্মু,দাঁতন এক ব্লক তৃনমূলের সভাপতি প্রতুল দাস ও তৃনমূলের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিশংকর মিশ্র সহ আরো অনেকে। 


বিজেপির সন্ত্রাস ও মিথ্যাচারের প্রতিবাদে সোমবার বিকালে দাঁতনের সরাই বাজারে তৃনমূলের পদযাত্রা ও সভায় মানুষের ঢল নেমেছিল।প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ ওই মিছিল ও সভায় সামিল হয়েছিলেন। যা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল। সভায় উপস্থিত তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি তীব্র ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী কে কটাক্ষ করেন। 


তিনি বলেন শুভেন্দু অধিকারী তার অনুগামীদের বিপথগামী করছেন। তিনি বিজেপিতে যোগদান করে যে ভাষায় তৃণমূলকে আক্রমণ করছে তা তৃনমুল কর্মীরা মন থেকে মেনে নিতে পারছে না। তাই এ দিনের মিছিলে স্লোগান ছিল গদ্দার শুভেন্দু হঠাও, বাংলা বাঁচাও, মীরজাফর শুভেন্দু হটাও ,দেশ বাঁচাও, বেইমান-বিশ্বাসঘাতক শুভেন্দু অধিকারী হঠাও। তিনি বলেন সাধারণ কর্মীদের আবেগ কে চেপে রাখা যায়না। তাই সাধারণ কর্মীরা দলে দলে এই সভায় শামিল হয়েছেন।তিনি শুভেন্দু অধিকারী কে কটাক্ষ করে বলেন তৃণমূলকে ছিন্নমূল বলে উনি যেভাবে আক্রমণ করছে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এর উপযুক্ত জবাব পাবেন। 


পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একটি আসনে ও বিজেপি প্রার্থী কে উনি জয়লাভ করতে পারবে না ।কারণ উনার সাথে মানুষ নেই। উনি কি ধরনের মানুষ তা বাংলার মানুষ বুঝে নিয়েছেন। মুখে ক্ষুদিরাম আর হাত ধরবে নাথুরামের এটা বাংলার মানুষ অর্থাৎ মেদিনীপুরের মানুষ কোন মতেই মেনে নেবে না। স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান মেদিনীপুর সেই মেদিনীপুরের মাটি অতি পবিত্র। মেদিনীপুরের মাটি থেকে ইংরেজদের ভারত ছাড়ার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল, দেশের জন্য ক্ষুদিরাম আত্ম বলিদান দিয়েছিল।


সেই ক্ষুদিরামের মাটি মাতঙ্গিনী হাজরার মাটি বিদ্যাসাগরের মাটির মেদিনীপুর শুভেন্দু অধিকারী কে আগামী দিনে উপযুক্ত জবাব দেবে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম জেলার একটি আসনে ও বিজেপি জয়লাভ করতে পারবে না। এখন শুভেন্দু অধিকারী বড় বড় কথা বলছেন ।উনি তো দুদিন আগেই বলেছিলেন বিজেপি হটাও দেশ বাঁচাও।উনি নোট বন্দি আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন ।আসলে নিজের দলে বিজেপিতে যোগ ছিল ও নিজেই স্বীকার করেছেন। 


সৌমিত্র খাঁ নিজেই বলেছেন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিষ্ণুপুর আসনে তাকে জয়লাভ করতে শুভেন্দু অধিকারী সহায়তা করেছে। এরূপ বিশ্বাসঘাতক ভারতবর্ষে কম পাওয়া যায়। যিনি তিনটা দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন তিনি কেন এলাকার উন্নয়ন করেননি। তিনি আজকে বলছেন আমি ল্যাম্পপোস্ট তৃণমূলেএকটাই পোস্ট তাহলে এতদিন দলে ছিলেন কেন। তিনি তীব্র ভাষায় শুভেন্দু কে কটাক্ষ করে একের পর এক প্রশ্নবান ছুঁড়ে  দেন। ওই সভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিত দেখে খুশি দেবাংশু ভট্টাচার্য। তিনি বলেন যেভাবে যুবসমাজ ও মা-বোনেরা এই মিছিলে শামিল হয়েছেন তা থেকে প্রমাণ যে এই এলাকায় বিজেপির অস্তিত্ব বলে কোন  কিছুই আর থাকবে না। 


দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান বলেন রবিবার দাঁতনের সরাই বাজারে শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে এবং দলনেত্রী কে কটাক্ষ করে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তা অতি নিন্দনীয়, সোমবার তিনি শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের তীব্র  প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন শুভেন্দু অধিকারী সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য বিজেপি কর্মীদের মদত দিচ্ছে। একটা তৃণমূল কর্মীর গায়ে হাত পড়লেই আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেবো। 


তিনি শুভেন্দু অধিকারী কে বলেন চোরের মায়ের বড় গলা। বিজেপিতে যোগদান করে এখন বড় বড় কথা বলা হচ্ছে। কেন তার বাবা এবং দুই ভাই তৃণমূলে রয়েছে। যে নিজের বাড়িতে এখনো পদ্ম ফোটাতে পারেনি সে নাকি গোটা বাংলায় পদ্ম ফোটাবে। পদ্ম ফুটিয়ে তিনি ঘুমাতে যাবেন।  বাংলার মানুষ কোথায় পদ্মফুল ফোটে সেটা ভালোভাবে জানে। মোরাম মাটিতে পদ্ম ফোটে না পদ্ম ফোটে পাঁকে। এই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা থেকে বিজেপি মুছে যাবে বাংলায় তৃতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 


বাংলার মানুষের প্রতি তৃণমূলের আশাভরসা রয়েছে আস্থা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে ছিল আছে আগামী দিনে থাকবে। তাই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে বাংলার মাটিতে বাংলার মানুষ জায়গা দিবে না বলে তিনি তীব্র ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী কে কটাক্ষ করেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন যে কৃষি বিল কৃষকদের ক্ষতিকারক যে কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে ৪০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে হাজার হাজার কৃষক দিল্লির রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছে তাদের পাশে না দাঁড়িয়ে মেদিনীপুরে একজন কৃষকের বাড়িতে খেয়ে ছবি তুলে প্রচার করছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।


 তিনি তীব্র ভাষায় বিজেপির সর্বভারতীয় প্রাক্তন সভাপতি অমিত শাহ ও বিজেপি নেতাদের বলেন কৃষকের পাশে থাকুন কৃষক বিরোধী কৃষি বিল প্রত্যাহার করুন। তা না করে কৃষকদের সর্বনাশ করার জন্য আপনারা এভাবে লোক দেখানো ছবি তুলে প্রচার করবেন না ।সর্বশেষে তিনি বলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষ তৃণমূলের পাশেছিল,আছে ও আগামী দিনা থাকবে ।তার প্রমাণ সোমবার দাঁতনের সরাই বাজারে যে সমাবেশ হয়েছে তা জনসমূদ্রে পরিণত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.